ঢাকা , শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নগরীর মেহেরচণ্ডি কড়ইতলা থেকে বুধপাড়া পর্যন্ত ধানের শীষ প্রতিকের পক্ষে গণসংযোগ রাণীশংকৈলে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত সরকার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিলে কারও কাছে আর হাত পাততে হবে না তানোরের হাতিশাইল রাস্তা নির্মাণ সহজ হলো যোগাযোগ ব্যবস্থা সাফিনা পার্কে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু, স্থানীয়রা ক্ষোভে ফুঁসছে পুলিশি গুলির অভিযোগ: রাজশাহীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, আরএমপি অভিমুখে মিছিল শরীফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্তের জন্য জাতিসংঘে চিঠি পাঠাবে অন্তর্বর্তী সরকার জাবের গুলিবিদ্ধসহ ইনকিলাব মঞ্চের অন্তত ১৫ কর্মী আহত: রাজধানীতে সংঘর্ষ পত্নীতলায় বীর মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন বাঘার রাওথা সীমান্তে বিদেশি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদকদ্রব্য জব্দ নগরীতে ইয়াবা-ট্যাপেন্টাডল সহ গ্রেফতার ৩ জামায়াত ধর্মের নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, দাঁড়িপাল্লায় ‘জান্নাতের টিকিট’ বিক্রির অভিযোগ—আবু সাইদ চাঁদ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, চলছে মহড়া- প্যারেড ভারতে কয়লা খনি ধসে ১৮ জন নিহত খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত ২৪ সন্ত্রাসী রংপুরে বাস-ট্রাকের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২ মা হওয়ার গুঞ্জনে মুখ খুললেন বুবলী সরকারি চাকরিজীবীরা পাচ্ছেন টানা ৪ দিনের ছুটি সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন: আনোয়ারুল ইসলাম রাজশাহী সীমান্ত থেকে বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার

সাফিনা পার্কে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু, স্থানীয়রা ক্ষোভে ফুঁসছে

  • আপলোড সময় : ০৬-০২-২০২৬ ০৯:৫০:৫৬ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৬-০২-২০২৬ ০৯:৫০:৫৬ অপরাহ্ন
সাফিনা পার্কে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু, স্থানীয়রা ক্ষোভে ফুঁসছে সাফিনা পার্কে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু, স্থানীয়রা ক্ষোভে ফুঁসছে
​রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সাফিনা পার্কে শিক্ষা সফরে এসে প্রাণ হারালো আবিদ আহনাফ সোয়াদ (১৫) নামের এক মাদরাসা শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পার্কের ‘ওয়াটার ওয়েভ পুলে’ গোসল করতে নেমে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত সোয়াদ বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া পাড়া এলাকার আবু হাসিবের একমাত্র পুত্র এবং বগুড়া ইকরা মডেল মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন যাবত পার্কের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলা স্বেচ্ছাচারিতা ও রিসোর্টে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রচার রয়েছে।তারা বলেন,পার্কের কারণে এই সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে।

প্রত্যক্ষদর্শী  জানান, শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে সহপাঠীদের সঙ্গে পার্কে প্রবেশ করে সোয়াদ। তবে দুপুরের পর থেকে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টি তারা তাৎক্ষণিকভাবে পার্ক কর্তৃপক্ষকে জানান এবং নিখোঁজ ছাত্রকে খুঁজে বের করতে সহযোগিতা চাওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, পার্কের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বিষয়টি আমলে নেননি এবং প্রায় দুই ঘণ্টা যাবত চরম অবহেলা প্রদর্শন করেন।এমনকি শিশু হারানো বা খোঁজ করা তাদের কাজ নয় বলে তাদের ভৎসনা করা হয়।

পরবর্তীতে দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে  ওয়েভ পুলে সোয়াদকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। জানা যায়, পুলে লাফ দেওয়ার সময় সে নাক, বুক ও মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। সেখানে কার্যকর কোনো উদ্ধারকর্মী বা লাইফগার্ড না থাকা এবং কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহোলায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কেউ উদ্ধার করতে পারেনি।​গুরুতর অবস্থায় সোয়াদকে উদ্ধার করে প্রেমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সন্ধ্যা ৬টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর মরদেহ গোদাগাড়ী মডেল থানায় আনা হয়।​গোদাগাড়ী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান বাসির বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। পার্ক কর্তৃপক্ষের অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।​

স্থানীয় সূত্র ও পর্যটকদের অভিযোগ, সাফিনা পার্কে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের অনিয়ম, মারামারি,অনৈতিক কার্যকলাপের ঘটনা ঘটে। এমনকি পার্কের কারণে আশপাশের কৃষকদের ফসলি জমি নষ্ট হওয়ার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। স্থানীয়রা বিভিন্ন সময় একাধিকবার গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এসব বিষয়ে মুখ খুললেও পার্ক কর্তৃপক্ষ তাদের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এবং অর্থ দিয়ে সব তথ্য গোপন ও ধামাচাপা দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাদরাসার শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কর্তৃপক্ষ সময় মতো সহযোগিতা করলে হয়তো একটি প্রাণ বেঁচে যেত। তাদের অবহেলার কারণেই একটি পরিবার তাদের একমাত্র সন্তানকে হারালো। তারা এর বিচার চান।

​এ বিষয়ে পার্কের ম্যানেজারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছাত্র মৃত্যুর বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করেন এবং পরবর্তীতে ব্যস্ততা দেখিয়ে এড়িয়ে যান। তার এমন আচরণে এলাকায় ও সুশীল সমাজে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দিগরাম খেজুরতলায় অবস্থিত সাফিনা পার্ক ও রিসোর্ট।

২০১২ সালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পার্কটি প্রথম গড়ে তোলা হয়। শুরুতে  ৪০ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে প্রায় ২ বছর (২০১৬-২০১৭) বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে পার্কটি নতুন আঙ্গিকে  চালু করা হয়। বর্তমানে এটি প্রায় ১০০ বিঘা এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।​সাফিনা পার্কের প্রতিষ্ঠাতা হলেন গোদাগাড়ীর বালিয়াঘাট্টা এলাকার দুই সহোদর ভাই ফজলুর রহমান ও সাইফুল ইসলাম ​বর্তমানে এটি একটি লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে এবং পার্কের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মিজানুর রহমান মিজান (যিনি ফজলুর রহমানের পুত্র)।

আশেপাশের এলাকা এবং সংলগ্ন মহাসড়কটি এখন স্থানীয়দের কাছে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনায় রক্ত ঝরছে সাধারণ মানুষের, কিন্তু অভিযোগ রয়েছে যে পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এসব ঘটনাকে কোনো আমলই দিচ্ছে না। উল্টো টাকার বিনিময়ে সব মুখ বন্ধ করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, পার্কটি কেন্দ্র করে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও যাতায়াত ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে ওই নির্দিষ্ট এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছে, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। কিন্তু পার্ক কর্তৃপক্ষ এসব দুর্ঘটনার দায়ভার নিতে নারাজ। তাদের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা সতর্কতামূলক সংকেত না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মনে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পার্কের অব্যবস্থাপনা বা দুর্ঘটনা নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলেই শুরু হয় ভিন্ন খেলা। স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, যখনই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পার্ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলে, তখনই তাদের পকেট ভারী করে দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, "খাম পদ্ধতির" মাধ্যমে বড় অংকের টাকা দিয়ে এসব অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়া একটি নিয়মিত নজিরে পরিণত হয়েছে। এখানে সাধারণ মানুষের প্রাণের কোনো দাম নেই। দুর্ঘটনা ঘটলে বা আমরা কোনো অভিযোগ করলে সেটা টাকার জোরে ধামাচাপা দেওয়া হয়। এমনকি অনেক সময় তথাকথিত প্রতিবাদীরাও টাকার লোভে তাদের বিবেক আর কলম বন্ধ করে দেন।

ক্ষমতার প্রভাব আর অর্থের দাপটে পার্ক সংশ্লিষ্ট সব অনিয়ম আর দুর্ঘটনার তথ্যপ্রমাণ আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের এমন আচরণে স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা মনে করছেন, দ্রুত যথাযথ তদন্ত এবং ব্যবস্থা না নিলে এই এলাকাটি সাধারণ মানুষের জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সরকার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিলে কারও কাছে আর হাত পাততে হবে না

সরকার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিলে কারও কাছে আর হাত পাততে হবে না